প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মেহেরপুর সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান

ছবি সংগ্রীহিত

 

মেহেরপুরের সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে আবারও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, তাদের কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানের কারণে ওই চেষ্টা সফল হয়নি।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কৃষিকাজ করতে গিয়ে তারা ভারতীয় কাঁটাতারের এপাশে শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই সময় সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এদিকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা এলাকা ত্যাগ করেন। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারজনকে আর খুঁজে পাননি। তাদের বিএসএফ ফিরিয়ে নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার, শূন্যরেখা এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটক্ষেত থাকায় ওই এলাকায় কেউ অবস্থান করলে তাকে সহজে শনাক্ত করা কঠিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে কয়েক দফায় মোট ১৩ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাদের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।

মন্তব্য করুন