প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:২৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জনসনের পাউডারে ক্যানসার ঝুঁকি, মামলা মেটাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব

ছবি: সংগ্রীহিত

দীর্ঘদিন আইনি লড়াইয়ের পর ট্যালকম পাউডার বিতর্কে সমঝোতার পথে হাঁটছে জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)। যু্ক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে প্রসাধনী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬৮ হাজার ২০ কোটি টাকা।

অভিযোগ ছিল, তাদের ট্যালক-ভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারের কারণে বহু নারী ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হবে। এটি জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ট্যালকম পাউডার-সংক্রান্ত মোট মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

তবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে হলে এসব মামলার অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীকে এতে রাজি হতে হবে।

ট্যালক মূলত একটি নরম প্রাকৃতিক খনিজ। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রসাধনী ও বেবি পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে গবেষণায ট্যালকের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসূত্র পাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারেও এর ব্যবহার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে।

২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ট্যালককে ‘মানব দেহে সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ উপাদান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে।

অবশ্য জনসন অ্যান্ড জনসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তাদের ট্যালকম পাউডারের কারণে ক্যানসার হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিন্তু ভোক্তাদের চরম উদ্বেগের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আইনি জটিলতা এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। প্রথমে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ও ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়।

এরও আগে ২০১৬ সালে মার্কিন আদালতের একটি জুরি বোর্ড ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭২ মিলিয়ন ডলার (৮৯০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে জেঅ্যান্ডজে-কে নির্দেশ দিয়েছিল; যা ছিল প্রসাধনী খাতে ভূকম্পন তৈরি করা প্রথম বড় ঘটনা।

পরবর্তীতে ওই রায় খারিজ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার ভুক্তভোগী নারী একযোগে বহুজাতিক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন।

জেঅ্যান্ডজে-এর মামলা বা আইনি বিভাগের প্রধান এরিক হাস বলেছেন, ‘বিশাল এই আর্থিক চুক্তির মধ্য দিয়ে কোম্পানি অবশেষে এই দীর্ঘমেয়াদী বিতর্কিত বিষয়টিকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।’

অন্যদিকে ভুক্তভোগী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের এই চূড়ান্ত মীমাংসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তটির বিচারিক এখতিয়ার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মামলার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে এটি যুক্তরাজ্যে প্রযোজ্য হবে না।

যুক্তরাজ্যের আইনি ইতিহাসেও জেঅ্যান্ডজে-এর বিরুদ্ধে ৭ হাজারে বেশি ক্ষুব্ধ গ্রাহকের দায়ের করা বৃহত্তম একটি পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা বর্তমানে লন্ডনের হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন