প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন ১৮ সিরিজের ঘোষণা দেয়নি। তবে প্রযুক্তিবিশ্লেষক, সরবরাহ শৃঙ্খল–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিমাধ্যমের প্রতিবেদনে নতুন সিরিজটি নিয়ে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। গুঞ্জন বলছে, বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো মডেলে ক্যামেরা, প্রসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে অ্যাপল।
তবে উল্লেখ্য, এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার আইফোন ১৮ সিরিজের সব মডেল একসঙ্গে বাজারে নাও আসতে পারে।
গুঞ্জন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ আইফোন ১৮, আইফোন এয়ার ২ এবং আইফোন ১৮ই বাজারে আসতে পারে ২০২৭ সালের বসন্তে।
নতুন আইফোনে ডিসপ্লের উপরের ডাইনামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় আরও ছোট হতে পারে।
গুঞ্জন রয়েছে, অ্যাপল ফেস আইডির কিছু সেন্সর ডিসপ্লের নিচে স্থাপনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এতে স্ক্রিনের কাটআউট কমে যাবে এবং ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় ব্যবহারকারীরা আরও বড় ডিসপ্লের অভিজ্ঞতা পাবেন।
আইফোন ১৮ প্রোর সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য আপগ্রেডগুলোর একটি হলো ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা।
বর্তমান আইফোনে ক্যামেরার অ্যাপারচার নির্দিষ্ট থাকে। নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হলে পরিবেশের আলোর পরিমাণ অনুযায়ী লেন্স নিজেই অ্যাপারচার বড় বা ছোট করতে পারবে। ফলে কম আলোতে আরও উজ্জ্বল এবং বেশি আলোতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নত মানের ছবি তোলা সম্ভব হতে পারে।
গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোতে ব্যবহার করা হতে পারে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো প্রসেসর।
এই চিপটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে, যা আগের ৩ ন্যানোমিটার চিপের তুলনায় বেশি শক্তিশালী এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া এতে টিএসএমসির নতুন ওয়েফার-লেভেল মাল্টি-চিপ মডিউল (WMCM) প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রসেসর, গ্রাফিক্স, নিউরাল ইঞ্জিন ও র্যাম আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে, ফলে সামগ্রিক পারফরম্যান্স বাড়তে পারে।
নতুন হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আইফোন ১৮ প্রোতে আগের তুলনায় বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে ফোনটি সামান্য পুরু হতে পারে।
তবে উন্নত প্রসেসর ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ডিসপ্লে প্রযুক্তির কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
রঙের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রচলিত ব্ল্যাক, সিলভার ও লাইট ব্লু–এর পাশাপাশি নতুন ডার্ক চেরি রঙের একটি সংস্করণ বাজারে আসতে পারে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো–এর প্রাথমিক মূল্য ১,২৯৯ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) থেকে শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স–এর সম্ভাব্য দাম হতে পারে ১,৩৯৯ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা)।
বিশ্লেষকদের মতে, যন্ত্রাংশের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের আইফোন সিরিজের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।
তবে অ্যাপল এখনো আইফোন ১৮ সিরিজের ফিচার, মূল্য কিংবা উন্মোচনের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে এসব তথ্যকে আপাতত বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও প্রযুক্তিবিশ্বে প্রচলিত গুঞ্জনের ভিত্তিতে সম্ভাব্য তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
মন্তব্য করুন