প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মণিরামপুরে ১২ হাজার ৮০০ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

 

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের মণিরামপুরে পৃথক অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে অপসারণ করা হয়েছে অবৈধ নেট-পাটা। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ জাল সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও মণিরামপুর থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সকালে উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট ব্রিজসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা প্রায় ৭০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল, নেট-পাটা ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ধ্বংস করা হয়।

এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে মণিরামপুর বাজারের সুতাপট্টি এলাকার দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ জাল সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে পাশের একটি পানের দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে প্রায় ২ হাজার ১০০ মিটার চায়না দুয়ারী জাল, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, এবং প্রায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা, জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫(১) ধারায় মেসার্স সন্দীপ ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী সন্দীপ কুণ্ডু (৩৭) এবং মেসার্স মুসলিম স্টোর-এর স্বত্বাধিকারী আবুল হাসান (৬২)-কে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরে জব্দ করা নিষিদ্ধ জাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সহযোগিতা করে মণিরামপুর থানা পুলিশ।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন বলেন, নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য করুন