প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:০৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তথ্য শুমারি কর্মসূচিতে অস্থায়ী তথ্য সংগ্রহকারী ও ফিল্ড সুপারভাইজার নিয়োগের ফল প্রকাশের পর যশোরের মণিরামপুরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুপারিশের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভালো পরীক্ষা দিয়েও অনেক যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে তুলনামূলক কম যোগ্যতা বা কম নম্বর পাওয়া কয়েকজন প্রার্থী রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তারা।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মণিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এলাকায় এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মন্তব্য ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
কোদলাপাড়ার পরীক্ষার্থী গাজী মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি তাঁর কাছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মনে হয়নি। তিনি ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানান।
নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন ও অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, নিয়োগ নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. জাকির হোসেনও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসাইনকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটির পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে চাকরিপ্রার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
জানা গেছে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় অস্থায়ী তথ্য সংগ্রহকারী ও ফিল্ড সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের জন্য গত ২৩ থেকে ২৫ জুলাই আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। গতকাল চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।
মন্তব্য করুন