প্রকাশিত: ১৭ ঘন্টা আগে, ০১:৫৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মুনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

উত্তরার শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

 

রাজধানীর উত্তরার শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজন ও শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা যায়। জরুরি বিভাগেও স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রশ্ন তুলেছেন।

নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গভর্নিং বডির নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক পদ এবং হাসপাতালের কর্তৃত্ব নিয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-সমর্থিত একটি পক্ষ এবং আগে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে থাকা আরেক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার এ নিয়ে প্রথমে বাক্‌বিতণ্ডা এবং পরে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে কয়েকজন বহিরাগত হাসপাতালের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে হাসপাতালের অধ্যক্ষ, চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে তাঁদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নতুন একটি পক্ষের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে, হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে জড়িত দুই পক্ষই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভিন্ন দুটি গ্রুপের সমর্থক। তবে এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে গেলেন রোগীরা

সংঘর্ষের পর হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগের অনেক রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়েই ফিরে যান। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা জরুরি রোগীদেরও অন্য হাসপাতালে যেতে দেখা যায়।

এক রোগীর স্বজন মোছা. রাশিদা বলেন, বহিরাগতরা হাসপাতালের গেট ও জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন। পরে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হয়। মেয়ের চিকিৎসা প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

আরেক রোগীর স্বজন ইসরাত জাহান স্মৃতি বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে দুই পক্ষের সংঘর্ষ দেখতে পান। নিরাপত্তার জন্য তাঁরা পাশের একটি হোস্টেলে আশ্রয় নেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-নার্স না থাকায় অন্য হাসপাতালে চলে যান।

ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ

হাসপাতালের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল কাদির অভিযোগ করেন, কয়েকজন বহিরাগত ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছ থেকে কয়েকটি পরিচয়পত্র জব্দ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয়পত্রে কোনো নাম বা ছবি ছিল না।

ঘটনার পর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষ, অধ্যক্ষের কার্যালয়সহ কয়েকটি প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে থাকা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযোগে জড়িত পক্ষগুলোর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন