প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৭:৪৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আসনটিতে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে, নাকি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী এবার আসনটি দখলে নিতে পারবে—এ নিয়েই এখন স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম ‘হাতপাখা’ প্রতীকে পান ৩ হাজার ৮৯২ ভোট।
নির্বাচনের পর মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এখন রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে উপনির্বাচনে নতুন প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে উপনির্বাচনে দলটি আসনটি ধরে রাখতে চায় বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন। তবে তিনি মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে শামারুহ মির্জাকে মনোনয়নের জন্য পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাঁর ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফুরাতুন নাহার প্যারিসও শামারুহ মির্জার পক্ষে মত দেন। তাঁর মতে, আসনটি ধরে রাখতে হলে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন নিজেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে আসনটির উন্নয়নে কাজ করতে চান।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেনকে ঘিরেও চলছে তৎপরতা। আগের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে এবার তিনি জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তরুণদের কর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূর করা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কথা তুলে ধরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করছেন বলে জানান।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৩ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।
এ আসনে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার এবং তরুণ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৭ জন। ফলে উপনির্বাচনে এসব ভোটারকে প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে অতীতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। একই বছরের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের খাদেমুল ইসলাম জয় পান। পরে ১৯৯৭ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেন নির্বাচিত হন।
২০০১ সালে মির্জা ফখরুল আবারও জয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে রমেশ চন্দ্র সেন জয় পান। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি আসনটি ধরে রাখেন।
এবার মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পুরোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে সামনে এসেছে। বিএনপি নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারবে, নাকি জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন এবার নতুন সমীকরণ তৈরি করবেন—উপনির্বাচনের ঘোষণা ও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই তা আরও স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন