প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের আদালতে একাধিক মানহানি মামলা হয়। এর আগে গত ২ এপ্রিল আদালত একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় আদালত আজ এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় তারা এই মামলাটি দায়ের করেছেন। এছাড়া একই অভিযোগে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকার আরেকটি মানহানি মামলা করেন, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পাশাপাশি মুফতি আমির হামজা সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন। গত ১৩ এপ্রিল তাকে এই বিষয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিস্তারিত:
গত ২৭ মার্চ হরিপুর জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে তিনি দাবি করেন, বর্তমান ডিসি ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা খরচ করে কুষ্টিয়ায় বদলি হয়ে এসেছেন।
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
লিগ্যাল নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে এই বিপুল অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম জনসম্মুখে প্রকাশের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
আইনজীবীদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো এবং রাষ্ট্রের মন্ত্রীদের নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার প্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন