প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের চেষ্টা, প্রতিরোধের ঘোষণা এনসিপি, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের

ছবি : সংগৃহীত

 


 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই স্তিমিত হলেও খুলনায় সংগঠনটির পুনর্গঠনের উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ার পর পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্গঠনের যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল।

জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা দেশ ছেড়েছেন, কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন, আবার কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে সংগঠনটির প্রকাশ্য কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের স্বাক্ষরযুক্ত বলে প্রচারিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্দিষ্ট ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর খুলনার কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকাশ্যে আবেদন করার ঘোষণা দেন। কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণাও শুরু করেছেন।

খুলনা জেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি পারভেজ হাওলাদার ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করে সংগঠনের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একইভাবে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন।

খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সোনাডাঙ্গা থানার সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমেদ দাবি করেন, সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রেখেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান তারা।

পুনর্গঠনের চেষ্টা প্রতিহতের ঘোষণা

এনসিপি খুলনা মহানগরের সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়া ছাত্রলীগকে জনগণ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তাদের গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা চলতে দেওয়া জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান। খুলনায় এমন কোনো পুনর্বাসনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলগুলো মূলত সংগঠনের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা। জনসমর্থন অর্জনের পরিবর্তে এগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতিক্রিয়া

খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম রাজিবুল আলম বাপ্পী বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। গোপনে ঝটিকা মিছিল করে জনসমর্থন পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরের সভাপতি রাকিব হাসানও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো সাংগঠনিক তৎপরতা রোধে প্রশাসনের আরও দৃশ্যমান ও পেশাদার ভূমিকা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির উদ্বেগ

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা উদ্বেগজনক। শুধু রাজপথ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম বলেন, জেলায় ছাত্রলীগের তৎপরতা খুবই সীমিত। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, নিষিদ্ধ কোনো ছাত্রসংগঠনের তৎপরতার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।


এই সংস্করণটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন নিউজের ভাষা ও কাঠামো অনুসরণ করে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও পাঠযোগ্যভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন