প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা |
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রতিফলিত জনরায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত ১৪টি ছাত্রসংগঠন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে তারা অভিযোগ করেন, সরকার সেই জনরায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বরং তা উপেক্ষা করার পথে এগোচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
তারা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগীয় নিয়োগ, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্কারমুখী অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে এসব উদ্যোগের প্রতি জনগণ সমর্থন জানালেও বর্তমান সরকার তা আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন ও পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে বলে দাবি করা হয়, যা জনরায়ের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছে সংগঠনগুলো।
সরকারের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর অধ্যাদেশগুলো আলাদাভাবে সংসদে উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই—এমন যুক্তি আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, এতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনি সুরক্ষা না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বিবৃতিতে রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের অমিল জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। তারা অবিলম্বে গণভোটের রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো আইন আকারে পাসের দাবি জানান।
পরিশেষে, দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামারও ইঙ্গিত দেন নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সভাপতি ও আহ্বায়করা।
বিবৃতিটি পাঠান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
মন্তব্য করুন