প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৩ জন নিহত

ছবি : সংগৃহীত

 

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবারের এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো প্রিফেকচার। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, অনেক মানুষ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, আটকে পড়াদের উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কুমামোতো প্রিফেকচারের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় কিউশুর বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের পর কুমামোতোর একটি শপিং মলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকের কারণে এ বিস্ফোরণ হয়েছে। এছাড়া একটি ভবন ধসে পড়ে এবং সেখানে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বহু সড়কে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪৮ হাজার বাড়িতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ধারকাজে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, পুলিশ ও সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় পানি, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বিভিন্ন কারখানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। তবে আশপাশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আরও কয়েক দিন উল্লেখযোগ্য মাত্রার আফটারশক অনুভূত হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রবেশ না করে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। নিয়মিত ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটি কঠোর নির্মাণনীতি ও উন্নত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অনুসরণ করে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করে।

মন্তব্য করুন