প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্রের হুমকি এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেন ওই শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। অন্যদিকে, অভিযোগকারী একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম বিভিন্নভাবে তাকে অনুসরণ, উত্ত্যক্ত এবং মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও অভিযুক্ত বারবার চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত জোর করে তাকে পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে যান এবং পুনরায় প্রেমের প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থী আবারও তা প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ছুরি বের করে ভয় দেখান এবং তার কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগী কান্নাকাটি করলে তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও, পথে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় আতঙ্ক ও কান্নার পর শেষ পর্যন্ত তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরে ফোনে অভিযুক্ত আত্মহত্যার ভয় দেখান এবং তার এক সহযোগী ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মহসিন আলমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা ঠিক হবে না। তিনি আরও জানান, তাদের তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন এবং নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন