প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:০০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তারেক রহমানকেও ‘আয়নাঘরে’ নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

 

 

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) একটি গোপন সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভিন্নমতের মানুষদের দমন করতে গোপন আটক ও নির্যাতনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব স্থানে অনেককে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এই ধরনের গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের কার্যক্রম শেখ হাসিনা সরকারের সময়ই শুরু হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে দীর্ঘদিন আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

আলামত নষ্টের অভিযোগ

জেআইসি সেল পরিদর্শনের পর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখানকার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু স্থানে নতুন করে দেয়াল নির্মাণ করে আগের কাঠামো আড়াল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আলামত নষ্টের চেষ্টা করে সংশ্লিষ্টরা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না বলে সতর্ক করেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গোপন টর্চার সেল পরিচালনা ও নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতিতে নতুন কারও নাম বা সম্পৃক্ততা উঠে এলে তাকেও বিচারের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি এখতিয়ার

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনগত অধিকার রয়েছে। জেআইসি সেলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য আলামত শনাক্ত এবং অতীতের ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন