প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মুসলিম দেশগুলোকে আত্মনির্ভরশীল ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আব্বাস আরাগচি। ছবি : সংগৃহীত

 

 

মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক ঐক্য ও সংহতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরাগচি বলেন, বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাইরের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন সময় নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করার।

আরাগচির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ইরানের কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিদেশি শক্তির পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্রমেই উপলব্ধি করছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে।

তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা নতুন করে আঞ্চলিক সংলাপ শুরুর রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আগে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পরে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা শুরু হয়।

তবে সমুদ্র নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে আলোচনা থমকে যায়। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ওপর নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান।

মন্তব্য করুন