প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পারিবারিক কবরস্থানে টিআর প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ

পারিবারিক কবরস্থান

পারিবারিক কবরস্থানে টিআর প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ


- রাকিবুল ইসলাম শান্ত
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি


পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরে টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দেবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯৭টি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী পঞ্জিয়া পাড়া কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য। গত ৩০ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা থেকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।


প্রকল্প কমিটির সভাপতি হবিবর রহমান বলেন, কবরস্থানে চার-পাঁচজনের কবর দেওয়া হয়েছে। আমার বাবা প্রায় ১২-১৩ বছর আগে মারা যান। তখন থেকে এটি কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী পঞ্জিয়া পাড়া এলাকায় গিয়ে হবিবর রহমানের কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। সেখানে দেখা যায়, প্রায় ১২ শতাংশ জমির ওপর মাত্র একটি কবর রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবেই পরিচিত। এই কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কবরস্থানটির একদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকলেও অপর তিনদিকে আগে থেকেই প্রাচীর নির্মিত রয়েছে। বিদ্যমান প্রাচীরগুলোও প্রায় ২-৩ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ৮-১০ বছর আগে হবিবরের বাবা মারা গেলে এখানে দাফন করা হয়। এরপর আর কাউকে এখানে দাফন করা হয়নি। এটি ওয়াকফ করা হয়েছে বলেও জানা নেই। আমরা সবাই এটিকে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবেই জানি।


এদিকে, গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনুমোদনের চার মাস পার হলেও বাস্তবে কোনো কাজ শুরু হয়নি। তবে ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলন করেছে কমিটির সদস্যরা।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২১’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। নীতিমালা অনুযায়ী, টিআর প্রকল্পের অর্থ কেবল জনকল্যাণমূলক ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা যাবে। যেহেতু পারিবারিক কবরস্থান ব্যক্তিগত সম্পদ এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বা ব্যবহারের সুযোগ থাকে না, তাই সেখানে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার হিসেবে গণ্য।


অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি যে এটি পারিবারিক কবরস্থান। এখন কবর নেই, ভবিষ্যতে হয়তো আরও কবর হতে পারে। তারা নীতিমালা অনুসরণ করে পাঠিয়েছিল, তাই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


নিয়মবহির্ভূত বরাদ্দের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

মন্তব্য করুন