প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৮:২৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে আবারও সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার প্রস্তুতি চলছে। শুধু ডিজেলের দাম নয়, বরং নানাবিধ ‘গায়েবি’ বা অস্তিত্বহীন খরচ যুক্ত করে বাসভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে পরিবহন মালিকপক্ষ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটিও মালিকদের এই আবদারে সায় দিয়ে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে ডিজেলের যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তা বিবেচনা করলে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ার কথা। কিন্তু মালিকপক্ষ খুচরা যন্ত্রাংশ, টায়ার, টিউব, ইঞ্জিন অয়েল এবং বাসের চেসিসের মূল্যবৃদ্ধির দোহাই দিয়ে এই হার ২২ পয়সা করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ভাড়ার চিত্র দাঁড়াবে নিম্নরূপ:
| রুটের ধরন | বর্তমান ভাড়া (প্রতি কিমি) | প্রস্তাবিত ভাড়া (প্রতি কিমি) |
| ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর | ২ টাকা ৪২ পয়সা | ২ টাকা ৬৪ পয়সা |
| দূরপাল্লার পথ | ২ টাকা ১২ পয়সা | ২ টাকা ৩৪ পয়সা |
বিআরটিএ-র ব্যয় বিশ্লেষণে এমন কিছু খরচের খাত দেখানো হয়েছে, বাস্তবে যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে:
গ্যারেজ ভাড়া: বাসের গ্যারেজ ও টার্মিনাল খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা ধরা হলেও ঢাকার অধিকাংশ বাস রাস্তার পাশেই রাখা হয়।
বাসের দাম ও আয়ুষ্কাল: একটি নতুন বাসের দাম ৩৫ লাখ টাকা ধরে ১০ বছরের আয়ুষ্কাল বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে ২০ বছরের পুরনো লক্কড়ঝক্কড় বাসেও একই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা: ভাড়া নির্ধারণের সময় চালক ও সহকারীদের মাসিক বেতন এবং বোনাস ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে শ্রমিকরা ‘ট্রিপ’ ভিত্তিক কাজ করেন এবং কোনো উৎসব বোনাস পান না।
মেরামত খরচ: প্রতি বছর ইঞ্জিন ওভারহোলিংয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মোটা অঙ্কের খরচ দেখানো হলেও রাস্তায় চলাচলকারী অধিকাংশ বাসের কঙ্কালসার অবস্থা এই দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির গঠন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ১১ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মালিকপক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন ৪ জন। বিপরীতে, কোটি কোটি সাধারণ যাত্রীর স্বার্থ দেখার জন্য কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি রয়েছেন মাত্র ১ জন।
বৈঠকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির প্রতিনিধিরা শুধু ডিজেলের দাম বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করলেও, বিআরটিএ মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে অন্যান্য খরচকেও হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তবে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, এর আগে ২০১৬, ২০১১ এবং ২০২৪ সালে ডিজেলের দাম কমলে কয়েক পয়সা ভাড়া কমানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। অথচ দাম বাড়লেই ‘গায়েবি’ খরচ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন