প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১২:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইরানবিরোধী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম মিজান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সুলতান আলী শিরজাদি ফখর। ইরানের বিচার বিভাগীয় সংস্থা দাবি করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন মুজাহিদিন-ই-খালকের (MEK) সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফখর ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে” অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগেই তাকে সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাত নিরসনে তারা আগ্রহী। তবে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে তেহরান। পাশাপাশি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোকে তারা তুলনামূলক ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, ইরানের বার্তাগুলো এখনো দ্বৈত—কখনো ইতিবাচক, কখনো আবার সতর্কতামূলক। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে কোনো আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত—
প্রথমত, অস্পষ্টতা: আলোচনার সময়সীমা বাড়ানো হলেও ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুনরায় সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, ভঙ্গুরতা: পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল; যেকোনো সময় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে স্থির বিষয়টিও অনিশ্চয়তা।
তৃতীয়ত, জটিলতা: যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণের মতো একাধিক জটিল ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন আর শুধু অবিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং যে কোনো সমঝোতা বা ঘনিষ্ঠতার প্রচেষ্টাকেই এখন তেহরান গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।
মন্তব্য করুন