প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ওমর ফারুক | স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা–১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের ভোটার এলাকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি নিজ আসনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নন।
হলফনামা অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের পিতার নাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক খান। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তবে তার দাখিল করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পল্লবী থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অর্থাৎ তিনি ঢাকা–১৬ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ভোটকেন্দ্রের নাম শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, কেন্দ্র নম্বর ৩৩—যা ঢাকা–১৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, ঢাকা–১৫ আসন মূলত মিরপুর ও কাফরুল এলাকা নিয়ে গঠিত। অথচ এই আসনের বাইরের একজন ভোটার ও বাসিন্দা কীভাবে ঢাকা–১৫ আসনের জনগণের প্রতিনিধি হতে চান,এ নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যিনি এই আসনের স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং এখানকার ভোটার নন, তিনি নির্বাচিত হলে মিরপুর ও কাফরুলবাসীর দৈনন্দিন সমস্যা, নাগরিক সংকট ও উন্নয়ন চাহিদা কতটা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবেন,তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে প্রচারের মাধ্যমে এলাকা পরিচিত হলেও, নির্বাচনের পর একজন ‘বহিরাগত’ প্রতিনিধি আদৌ কতটা দায়বদ্ধ থাকবেন এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি? নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ রক্ষার একটি কাগুজে প্রার্থিতা?
এই প্রেক্ষাপটে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, জনপ্রতিনিধিত্বের মৌলিক দর্শন,এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা,এই প্রার্থিতার ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ঢাকা–১৫ আসনের নির্বাচনী মাঠে কতটা প্রতিফলিত হয়।
মন্তব্য করুন