প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৩ মাসেই বিধ্বস্ত কোটি টাকার বাঁধ: কুলাউড়ায় হুমকিতে নওয়াগাঁও-অলিপুর সড়ক

 

মো. রিপন আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ফানাই নদের ভাঙন রোধে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধ ও নতুন পাকা সড়ক উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থাপিত সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩–এর আওতায় বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে নওয়াগাঁও-অলিপুর পর্যন্ত প্রায় ১,১০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের কাজ পায় স্থানীয় ঠিকাদার আব্দুল লতিফ। একই প্রকল্পের অধীনে অলিপুর এলাকায় ফানাই নদের ভাঙনপ্রবণ প্রায় ৫৫ মিটার অংশে সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ব্লক ধসে পড়ার পর ওই এলাকার মাটি ক্রমাগত নদীতে দেবে যাচ্ছে। এতে সদ্য নির্মিত পাকা সড়কটি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছরের অবহেলার পর নির্মিত এ সড়কটি তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দুর্বল পরিকল্পনার কারণে অল্প সময়েই তা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আব্দুল লতিফ বলেন, নকশা অনুযায়ী তিন ফুট উচ্চতার দেয়াল দিয়ে সিসি ব্লক বসানো হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট স্থানে নদীর গভীরতা ১০ ফুটের বেশি হওয়ায় নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নদীর বিপরীত পাশের চর কেটে পানির চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জানান, ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনো দপ্তরের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তাকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি উঁচু প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক ও বাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং নির্মাণকাজের মান পুনঃনিরীক্ষা করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

মন্তব্য করুন