প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১১:০৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৫০০ টাকার ভারতীয় ইলিশ ১,৮০০ টাকায়, বিক্রি হচ্ছে পদ্মার ইলিশ বলে

 

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশে সয়লাব যশোরের বিভিন্ন বাজার। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ কেজিপ্রতি প্রায় ৫১৪ টাকা খরচে দেশে প্রবেশ করলেও তা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিদেশি ইলিশকে চাঁদপুর, বরিশাল বা পদ্মার ইলিশ পরিচয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। এসব মাছের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দুই মাসে ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, প্রথম দুই মাসে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন। মাছ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আমদানিকারকদের ভাষ্য, তাঁরা বৈধভাবে এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করছেন। বাজারে মাছ কী পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে, সেটি তাঁদের বিষয় নয়। তবে ক্রেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি করা ইলিশের একটি অংশ দেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। বেনাপোল বাজারের ক্রেতা মো. মহিউদ্দিন বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে মাছ কিনে খাওয়ার পর তিনি স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কখনো চাঁদপুর, কখনো বরিশাল বা চট্টগ্রামের ইলিশ বলে এসব মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতারণা বন্ধ করা।

বর্তমানে বেনাপোলের বাজারে ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ওজনের কথিত ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমেছে। তবে বিদেশি মাছকে দেশি ইলিশ বলে বিক্রির অভিযোগে ক্রেতাদের পাশাপাশি প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন, প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করেছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, বাজারে বিদেশি ইলিশের উৎস ও পরিচয় নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি এবং ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


মন্তব্য করুন