প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আফটারশক শতাধিক, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত ২৫৪

ছবি : সংগৃহীত

 

 

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পরও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। একই সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ভবন ধসে পড়েছে। কোথাও ভবন হেলে পড়েছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল।

মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পেরেইরায় ১০১ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে পার্থক্য থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বনাঞ্চলঘেরা চোকো অঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানকার অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন। সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার রাত থেকেই উদ্ধারকারীরা ক্রেন ও খননযন্ত্রের পাশাপাশি খালি হাতেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক এলাকায় উদ্ধারকারীরা নীরবতা বজায় রাখতে বলছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের কোনো শব্দ পাওয়া যায় কি না, তা শনাক্ত করা যায়।

ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক পরিবারকে বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কুকুর ও বিড়ালের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও খাবার, ওষুধ ও স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তা চেয়েছে।

কালির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচিব জার্মান এসকোবার জানিয়েছেন, শহরের মর্গে মরদেহ রাখার আর জায়গা নেই। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহ সংগ্রহ করে অন্যত্র নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাট ঠেকাতে কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের রাতের কারফিউ জারি করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় মেয়রকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে দেখা গেছে।

এদিকে চোকো অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পায়নি। চোকোর রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত সিপি এলাকায় সড়ক ও নদীপথে যেতে প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় লাগে। স্থানীয় নেতা আন্দ্রেস কাইসেদো জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় আগে থেকেই বিপর্যস্ত ওই এলাকার মানুষ ভূমিকম্পের পর আরও দুর্ভোগে পড়েছেন।

অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সংযোগ পাওয়ার আশায় মানুষ গাছে উঠে চেষ্টা করছেন। ভূমিকম্পের আতঙ্কে শিশু ও প্রবীণদের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনটি বিমানবন্দর বন্ধ ছিল। চোকোর বিভিন্ন এলাকায় পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিন পর এই ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের অর্থনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কলম্বিয়ার জাতীয় কফি ফেডারেশন। সংস্থাটির প্রধান জার্মান বাহামন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও গ্রামীণ অবকাঠামোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নিহতের সংখ্যা নিয়ে সমন্বিত চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন