প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৮:৫৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানি হামলার আশঙ্কায় গোপনে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার কারণে গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। অথচ প্রকাশ্যে জানানো হয়েছিল, তিনি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ করেই যুক্তরাজ্যে যাবেন।

সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানায়, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজে করে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছান। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এক নাগরিকের কাছ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। ওই সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনাও তীব্র ছিল। পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত থাকায় সফরটি নিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তিনি পুরোনো আকাশি-নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহলে যাবেন। একই সময়ে কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটিও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আঙ্কারার বিমানবন্দরে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে গোপনে একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকের মাধ্যমে অন্য একটি ছোট উড়োজাহাজে নেওয়া হয়। পরে ওই উড়োজাহাজে করেই তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন।

প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ উড়োজাহাজটি রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানও সেখানে পৌঁছায়।

সফররত সাংবাদিকদের অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেননি যে প্রেসিডেন্ট অন্য একটি উড়োজাহাজে রয়েছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও ধারণা করেছিলেন, ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করছেন।

এ সময় সাংবাদিকদের পুরো ফ্লাইটে বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তারা সম্ভবত ‘বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ ছিলেন। তবে তিনি নিজে যেহেতু ওই যাত্রায় ছিলেন, তাই সাংবাদিকদেরও সঙ্গে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। পরে তিনি মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির দিকে যান।

গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজ ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং বলেন, প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখা অনেক শত্রু রয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসন তাদের হাতে থাকা সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

এর আগে ২০০০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরেও একই ধরনের নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন