প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০১:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে সামনে রেখে জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের জন্য নির্ধারিত আসনের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি আসন পাচ্ছে জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কাছ থেকে। এতে দলটি দুইজন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন। জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলেই জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
জোটভিত্তিক আসন বণ্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তাদের মিত্ররা পেয়েছে ৩৬টি আসন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য রাখা হয়েছে একটি আসন। এ অবস্থায় জামায়াত জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি ৬টি সাধারণ আসনে বিজয়ী হওয়ায় একটি সংরক্ষিত নারী আসন নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে আরও একটি আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, “সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াতের কাছে অতিরিক্ত একটি আসন চাওয়া হয়েছিল, তারা এতে সম্মতি দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।”
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি দলটি। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেন, প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় ও জোট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জানান, জোটের সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এনসিপিকে একটি অতিরিক্ত সংরক্ষিত নারী আসন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য সহযোগী দলকেও আসন বণ্টনের আওতায় আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনকে ঘিরে জোটগুলোর মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।
মন্তব্য করুন