প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ঝিকরগাছায় চাঁদার দাবিতে প্রবাসীকে ছুরিকাঘাত, এলাকায় উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

 

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে চাঁদা না দেয়ায় ইমানুর (৩৪) নামের এক প্রবাসী যুবককে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইমানুরের অভিযোগ, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের মুখে তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর ইমানুরের কাছে একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে চন্দ্রপুর গ্রামের সালাম মেম্বারের বাড়ির সামনে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের সবুজ (৩৩)পিতা- আপতাব, সুমন (৩২) পিতা-মতিয়ার, শামিম (৩৩) পিতা- বুদো সহসহ আরও ৫-৬ জন এ হামলায় অংশ নেয়।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এদিকে, হামলার ঘটনার পর মির্জাপুর গ্রামে আরও কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শওকত হোসেন অভিযোগ করেন- "রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘরের টিন, দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, একই ব্যক্তিরা ইমানুরের ওপর হামলার সঙ্গেও জড়িত।"

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইমানুরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বপন দাস জানান, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন- "ঘটনার খবর পেয়েছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। এ সময় উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুনার রশিদ, নাভারন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

মন্তব্য করুন