প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পরকিয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডে জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর নিন্দা

ছবি: সংগ্রীহিত


স্টাফ রিপোর্টার :

ফেনী জেলার সোনাগাজীতে পরকিয়ার জেরে স্থানীয় এক ইউনিয়ন তাঁতী দলের নেতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দলটি।

নিহত আইয়ুব নবী তারেক (২৬)-এর বাড়ি সোনাগাজী উপজেলার ২ নম্বর বগাদানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুনক গ্রামে। তিনি বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তারেককে হত্যা করেছে। পরে স্থানীয় জামায়াত এক বিবৃতিতে জানায়, পরকীয়ার জেরে তাঁতী দল নেতা আইয়ুব নবী তারেক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটে ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, নিহত তারেক একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত নাহিদের স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারেককে ডেকে নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালানো হয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত ও অভিযুক্ত ব্যক্তি পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি নিহতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার তথ্য সামনে এলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণভাবে অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, এই পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঘনিষ্ঠ কিছু মহল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে দায় চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টিকে অন্যায়, অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
 

মন্তব্য করুন