প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মনিরামপুর প্রতিনিধিঃ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নে প্রবাসে পাঠানোকে কেন্দ্র করে দালাল ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরে খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে ডাকা একটি সালিশ বৈঠক এসআইয়ের আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে পণ্ড হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিতা ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের মোঃ আসাদুল, পিতা- ওলিয়ার রহমান, সোমালিয়ায় কাজ দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনকে বিদেশে নিয়ে যান। তবে সেখানে কাজ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার সঙ্গে যাওয়া কয়েকজন প্রবাসী ভোগান্তির শিকার হন এবং পরে জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন—
১. সহেল উদ্দিন, পিতা- দবির উদ্দিন
২. ইউনুস আলী, পিতা- আবুল কাশেম
৩. মনিরুল ইসলাম, পিতা- হারুল
৪. গোলাম রাব্বি, পিতা- আজিজুর রহমান
৫. মানিক, পিতা- মৃত বিল্লাল
৬. সোহেল, পিতা- রফিক
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। ওই সালিশে দালাল হিসেবে অভিযুক্ত আসাদুলকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৫ লাখ টাকার মধ্যে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। সালিশ শেষে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়।
তবে পরে আসাদুল তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ওপর গ্রাম্য আদালত জোরপূর্বক একতরফা রায় দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়েছে। তিনি তার অভিযোগে গ্রাম্য আদালতের সদস্য হিসেবে মরশেদ, আজিবার ও শিমুল-এর নামসহ ভুক্তভোগী ৬ জনের নাম উল্লেখ করেন।
গ্রাম্য আদালতের অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—
১. মরশেদ, পিতা- মৃত মোসলেম
২. আজিবার, পিতা- মহসেন আলী
৩. শিমুল, পিতা- মনু মিয়া
পরবর্তীতে থানার পক্ষ থেকে অভিযোগটির তদন্তভার দেওয়া হয় খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই নির্মল-এর ওপর। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি উভয় পক্ষকে গত ৮ এপ্রিল বিকাল ৩টায় খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে মীমাংসার জন্য তলব করেন।
অভিযোগ রয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচনার একপর্যায়ে কথোপকথনের সময় এসআই নির্মল রোহিতা ইউনিয়নের মানুষকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত রোহিতার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিচারিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায় এবং সালিশ বৈঠকটি অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন