প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে সংরক্ষণের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন এবং তা এখনো কার্যকর বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশ্বে বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী রাশিয়া এর আগেও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি বাজারে।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সম্ভাব্য নৌ-অবরোধের হুমকির সমালোচনা করে পেসকভ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব কার্যকর হলে তা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন