প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পাঁচটি দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এই তণ্ডব চলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সাথে দাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের ২১.৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে ওই জমির একাংশ জোরপূর্বক দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন চেয়ারম্যান মোশাররফ। এই জমি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার বিকেলে বিরোধ মেটাতে একটি সালিস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যানপক্ষ সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় সালিসে আসা লোকজন বিরোধপূর্ণ স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এর জের ধরে গতকাল শনিবার বিকেলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বিল্লাল হোসেনের সমর্থক ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলাম ও এনামুল চৌধুরীর বাড়িসহ মোট পাঁচটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এই সহিংসতায় আহত ১৪ জনের মধ্যে কয়েকজনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
জমির মালিক দাবিদার বিল্লাল হোসেন বলেন, "হাইকোর্টের রায় থাকার পরও আমি দখল পাচ্ছি না। চেয়ারম্যানের লোকজন আমার সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর করেছে এবং লোকজনকে পিটিয়ে আহত করেছে।"
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, "বিল্লাল বহিরাগত লোক নিয়ে আমার বাড়িতে তালা দিয়েছে এবং আমার লোকজনকে পিটিয়েছে। তারা আইন হাতে তুলে নিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ করছে।"
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে আজ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন