প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৪:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয়। গ্রিড বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে মোবাইল টাওয়ার বা বিটিএস এখন প্রায় পুরোপুরি জেনারেটর–নির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে নেটওয়ার্ক সচল রাখতে দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে প্রায় এক লাখ লিটারে পৌঁছেছে।
মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিদিন শুধুমাত্র বিটিএস বা টাওয়ারগুলো সচল রাখতেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫২ হাজার ৪২৫ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেন। এর বাইরে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ডেটা সেন্টার ও সুইচিং অবকাঠামো চালু রাখতে প্রতিদিন আরও ২৭ হাজার ১৯৬ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে।
অপারেটর ভেদে ডেটা সেন্টারে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা:
গ্রামীণফোন: ১১,১৮৪ লিটার
রবি: ৯,৭৩২ লিটার
বাংলালিংক: ৮,২০০ লিটার
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা সাড়ে ১৮ কোটির বেশি। অপারেটররা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে প্রথমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়বে। এরপর শহরাঞ্চলেও কল ড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং আংশিক নেটওয়ার্ক অচল হওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হবে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
অ্যামটব মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, "ডেটা সেন্টার হলো অপারেটরের মস্তিস্ক। এটি বন্ধ হওয়া মানে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যাকআপ ক্ষমতা কতটুকু টিকবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।"
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে জরুরি চিঠি দিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। চিঠিতে বলা হয়েছে, অনেক এলাকায় দৈনিক ৫-৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু আন্তঃজেলা জ্বালানি পরিবহনে বাধা এবং ডিপো থেকে সরাসরি সরবরাহ না থাকায় অনেক সাইটে তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
নেটওয়ার্ক বিপর্যয় রোধে অ্যামটব চারটি জরুরি সুপারিশ করেছে: ১. কোর নেটওয়ার্ক ও ডেটা সেন্টারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। ২. বিটিএস সাইটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া। ৩. অপারেটরদের নির্ধারিত পয়েন্টে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ করা। ৪. টেলিকম জ্বালানি পরিবহনে বাধা না দেওয়া।
এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, টেলিযোগাযোগ একটি জরুরি সেবা। এটি যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। তবে অগ্রাধিকার সুবিধার যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
দৃষ্টি আকর্ষণ: বড় ধরনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয় হলে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ব্যাংকিং সেবা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন