প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হামলায় অংশ নেওয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সেক্রেটারি (ডানে সবুজ টি-শার্ট), মাঝে অস্ত্র হাতে যুবদল কর্মী বিপ্লব এবং ইনসেটে যুবদলের সদস্য মিঠুন © টিডিসি সম্পাদিত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা ঘিরে এলাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না থানায় দায়ের করা মামলার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য। বিশেষ করে হামলার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করা এবং ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হয়ে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম এজাহারে না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে মূল আসামীদের শনাক্ত এবং নির্দোশদের বাদ দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে সক্রিয় থাকলেও তাদের কাউকে মামলার আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে জানা যায়, শনিবার দুপুরে লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে একদল লোক মিছিল সহকারে শামীম রেজার দরবারে প্রবেশ করে। তারা দরবারের নিচতলা ও দোতলায় ভাঙচুর শুরু করে এবং শামীম রেজার ঘরের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনে। এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হামলাকারীরা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনায় পরিববার প্রথমে মামলা করতে রাজি না হলেও পরে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামানকে। এছাড়া স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি রাজিব ও শিহাব নামের আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে। তবে এই হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও তাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
‘মামলার আসামী কাকে করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না।’- ফজলুর রহমান, নিহতের ভাই ও মামলার বাদী
ভিডিও ফুটেজে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসামি করায় মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন