প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কুড়ে ঘরেই শেষ ঠিকানা, নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় ৯০ বছর অপেক্ষা  বৃদ্ধা ফাতেমার

ফারুক মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি নিরাপদ ঘরের আশায় দিন গুনছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মনাথপুর গ্রামের ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম। রাস্তার পাশে বাঁশের ছটা ও পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি কুড়ে ঘরই এখন তার একমাত্র আশ্রয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন তিনি।

ফাতেমা বেগম মৃত মুনতাজ আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন তিনি। জীবনের শেষ বয়সে তার নিয়মিত আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেলেও তা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেও দিন কাটাতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও কারও কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করতে চান না ফাতেমা। শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের বাড়িতে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাও কমে এসেছে। ফলে প্রতিদিনের জীবনযাপন তার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বাঁশের ছটা ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা ছোট্ট ঘরটিতে বসবাস করছেন ফাতেমা বেগম। ঘরের এক অংশে থাকার ব্যবস্থা, অন্য অংশেই রান্নাবান্না করেন তিনি। বৃষ্টির মৌসুমে ঘরের চারপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কাদা ও জমে থাকা পানির মধ্যেই তাকে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল মোড়ল বলেন, “ফাতেমা বেগম খুবই অসহায়। তাকে দেখাশোনা করার মতো পরিবারের অন্য কোনো সদস্য নেই। সরকারি কোনো সহযোগিতা এলে আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাকে দেওয়ার চেষ্টা করি। ঈদের সময় সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যতটুকু সহযোগিতা আসে, সেটিও তাকে দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ফাতেমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বয়সের কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তবুও ভিক্ষা না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

ফাতেমা বেগমের জীবনের শেষ বয়সের চাওয়া খুব বেশি নয়। একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং একটু মানবিক সহায়তা পেলেই তার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াবেন। একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা হলে জীবনের শেষ সময়ে অন্তত মাথা গোজার ঠাঁই পাবেন ফাতেমা বেগম।

মন্তব্য করুন