প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

অতীতে যারা সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নেই: জামায়াত আমীর

অতীতে যারা সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নেই: জামায়াত আমীর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে যারা নিজেদের সততার প্রমাণ দিতে পারেনি এবং বর্তমানে যারা তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। ভোট চাইবে তারাই, যারা অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেম দিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার দিন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনীতি মামলা-বাণিজ্য, দুর্নীতি, দখলবাজি, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতা ছাড়া জাতিকে কিছুই দিতে পারেনি। এই ব্যর্থ রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তন করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাদের হায়াত দিলে ১২ তারিখ থেকেই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন দল দেশ শাসন করেছে। প্রত্যেকেই ক্ষমতায় গিয়ে বলেছে—সবকিছু ঠিক করে দেবে। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি বা করেনি, যার সাক্ষী দেশের ১৮ কোটি মানুষ।

আমীরে জামায়াত বলেন, একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে তিনটি মৌলিক বিষয়ের প্রয়োজন—মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার। এই তিনটি নিশ্চিত করা গেলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি যে নতুন সূর্য উদিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়েই উঠবে। “আমাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা-বাণিজ্য, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচার করতে দেওয়া হবে না,”—বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, শাসন ব্যবস্থায় কোনো মামু-খালুর বিচার থাকবে না। সাধারণ নাগরিকের জন্য যে বিচার প্রযোজ্য হবে, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির জন্যও সেই একই বিচার কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, জনগণের বঞ্চনার জন্য তাদের আর রাস্তায় নামতে হবে না। ন্যায্যতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

জনসভায় উপস্থিত ১১ দলের নেতৃবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের কথা উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, যারা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে জীবন ও রক্ত দিয়েছেন, সেই ত্যাগের আমানত সবাইকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে দুটি ভোট দিতে হবে—একটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট, যার অর্থ আজাদি, এবং আরেকটি সরকার গঠনের জন্য ভোট।

মন্তব্য করুন