প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার:
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশে সব ধরনের জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে আনীত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকার সম্ভাব্য সব উৎস অনুসন্ধান করছে এবং দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে।
মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের জন্য একটি নির্ধারিত আইন রয়েছে, যার আওতায় প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হয়। গত মাসে দাম সমন্বয় করা হয়নি, তবে চলতি মাসে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আসবে। অকটেনের মজুত রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যা এপ্রিলের মধ্যে আরও ৭১ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন বাড়বে। পেট্রলের মজুত ১৬ হাজার মেট্রিক টন এবং এ মাসেই আরও ৩৬ হাজার মেট্রিক টন সরবরাহ হবে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই পড়েছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তান জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে ও কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, আর ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে।
তবে বাংলাদেশে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনায় রেখে এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে সহজে ডিজেল পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে কৃষক কার্ড বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ মজুত প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অবৈধ মজুত রোধে গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন