প্রকাশিত: ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসী সালেহ আহমদকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আ'লীগ নেতার বিরুদ্ধে

 

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রবাসী সালেহ আহমদকে পরিকল্পিতভাবে ফোন দিয়ে ঘর থেকে ডেকে এনে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফজলু মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ও রাতের মধ্যে উপজেলার ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া-করিমপুর এলাকায় ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোঃ ফজলু মিয়ার চাচাতো ভাই সুহেল মিয়াকে রুজেন মিয়া নামে এক ব্যক্তি গাঁজাসহ আটক করলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে প্রবাসী সালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এর জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোঃ ফজলু মিয়ার নেতৃত্বে সুহেল মিয়াসহ ১০/১২ জন সালেহ আহমদকে জরুরি কাজের কথা বলে ফোন দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। বাড়ির সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ অর্থ লুট করে এবং ব্যবহৃত দামি মোবাইল আইফোন ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোঃ ফজলু মিয়ার প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, খেলার মাঠে ঘর নির্মাণ, নিরীহ মানুষকে নির্যাতন, অসহায়দের অর্থ আত্মসাৎ, জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লাখ টাকার একটি সেতু নিজ বাড়িতে স্থাপন এবং ঈদগাহের অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয়রা জানান, স্কুল মাঠের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই মাঠে জানাজার নামাজ আদায় ও তরুণদের খেলাধুলা হতো। জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে নির্মিত ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ ফজলু মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন