প্রকাশিত: ২ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় কলেজ ছাত্রদল সভাপতিকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদল সভাপতি

মিজানুর রহমান, বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে দলীয় নেতৃত্বের বিরোধ ও ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিলকে (২৪) ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিনসহ ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত রবিবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে নন্দীগ্রাম শহর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত ফিরোজ আহমেদ শাকিল নন্দীগ্রাম শহরের মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং মাঝগ্রাম মহল্লার শফিকুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তি রাকিবুল হাসান পলিন পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এবং পৌর জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ স্ট্যালিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় একদল দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে শাকিলের ওপর হামলা চালায়। তাকে বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শাকিল ও পলিনের মধ্যে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এছাড়া ঘটনার কিছুক্ষণ আগে এক তরুণীকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শাকিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই প্রতিবাদের জের ধরেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে আহত ছাত্রনেতাকে দেখতে যান বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযুক্তরা দলের কেউ হলেও তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাকিলের মা ফিরোজা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, "আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।"

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন