প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জামায়াত আমীরের জন্মভূমিতে চতুর্মুখী নির্বাচনী উত্তাপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন চরমে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় কুলাউড়া আসনে নির্বাচন চতুর্মুখী লড়াইয়ে রূপ নিলেও ভোটের নিয়ামক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোট।


তারেকুল ইসলাম পাটোয়ারী, মৌলভীবাজার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন চরমে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় কুলাউড়া আসনটি এবারের নির্বাচনে বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে। এ আসনে নির্বাচন চতুর্মুখী লড়াইয়ে রূপ নিলেও ভোটের নিয়ামক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোট।

এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই চার প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকবে।

১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুলাউড়া উপজেলায় প্রতিদিনই মিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম পরিবেশ বিরাজ করছে। হাটবাজার, চা-বাগান এলাকা ও জনবহুল স্থানে প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে—এ কারণে এলাকায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

চা-শ্রমিক ও খাসিয়া সম্প্রদায় বড় ফ্যাক্টর:

কুলাউড়া উপজেলায় রয়েছে ২৪টি চা-বাগান ও ৩০টি খাসিয়াপুঞ্জি। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ভোটার চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের। এছাড়া হাকালুকি হাওরকেন্দ্রিক জেলে সম্প্রদায়, খাসিয়া, গারো ও মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ভোটও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অতীতের নির্বাচনী ইতিহাসে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ের নজির রয়েছে। ফলে দলীয় মেরুকরণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রান্তিক ভোটারদের ভোটদান এবারের ফল নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াত নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কুলাউড়ায় তারা সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হয়েছেন। জামায়াত আমিরের জন্মস্থান হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলটির দাবি, চা-শ্রমিক, খাসিয়া, হিন্দু ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ তাদের প্রতীকের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।

জামায়াত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী বলেন, “কুলাউড়ায় আমাদের অবস্থান মজবুত। নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। তরুণ ভোটাররা সচেতনভাবে ভোট দিতে প্রস্তুত। সিলেট অঞ্চল থেকে নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কুলাউড়াবাসী মনেপ্রাণে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করছে।”

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তারা বিএনপিকেই বেছে নেবে।”

সব মিলিয়ে জামায়াত আমিরের জন্মভূমি কুলাউড়ায় শেষ পর্যন্ত কার হাতে বিজয় ধরা দেবে, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোট। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এই আসন ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহ ও কৌতূহল।

মন্তব্য করুন