প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁর মান্দায় মাদ্রাসার পথ বন্ধ, শিক্ষক গ্রেপ্তারে ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই ঘটনায় ‘ওসি দেখা করতে বলেছেন’ বলে ডেকে নিয়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তারের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ডাকাতের মোড় এলাকায় অবস্থিত হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম হোসেন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মেহেদী হাসানকে জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার সঙ্গে জরুরি কথা বলবেন। শিক্ষকের সম্মান রক্ষার্থে তিনি স্বেচ্ছায় থানায় গেলে তাকে আর ফিরে আসতে দেওয়া হয়নি। পরে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে একটি বিতর্কিত চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, প্রভাবশালীদের চাপ ও একটি উচ্চপর্যায়ের ফোনকলের কারণে পুলিশ এই গ্রেপ্তার করেছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জানা যায়, গত ৩০ মার্চ প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মন্ডল ও তার লোকজন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মালামাল চুরির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মামলায় উল্লেখিত সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। এতে করে মামলার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলাটি গ্রহণ করেছিলেন।
বর্তমানে মাদ্রাসার প্রধান ফটক প্রভাবশালী একটি পক্ষ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে শিশু ও নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে মামলার আসামি প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একদিকে ছেলের গ্রেপ্তার, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের সংকট—দুইয়ের চাপে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম হোসেন বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল এবং পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি একটি সাজানো ও হয়রানিমূলক মামলা। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মাদ্রাসার যাতায়াত পথ উন্মুক্ত করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন