প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:৫৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

ছবি: সংগ্রীহিত

 

দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণার ফলে স্থবির হয়ে থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এক পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে যায়। দিন শেষে দাম কমে প্রায় ৯ শতাংশে স্থিত হয়, যা সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতির খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে যুদ্ধঝুঁকি কমার আশায় তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ ডলার কমে ৯০ দশমিক ৩৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৮৫ ডলারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে তেলের দামে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি যোগ হয়েছিল, তা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও তা দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে। এ সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি তিন পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। তার দাবি, চুক্তির আওতায় ইরান আগামী ২০ বছর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান।

সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের সঙ্গেই নয়, বরং মিত্র দেশ ইসরায়েলের প্রতিও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। লেবাননে নতুন করে কোনো হামলা না চালাতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে তেলবাহী জাহাজ পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় ২১ দিন সময় লাগে।

এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও ইরানের ওপর আরোপিত সামরিক অবরোধ এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে ভবিষ্যতে আবারও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে আপাতত তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ কমার আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন