প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

অনলাইন ক্লাস জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ: গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগ্রীহিত

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিচ্ছে, যা জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য বহুমুখী ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষার প্রভাব ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, অনলাইন ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এবং শিশু শ্রমের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শিক্ষা সংস্কারের অভাবে শিক্ষাব্যবস্থা এখনো কোভিডজনিত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাখাতে কার্যকর সংস্কারই সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু তার পরিবর্তে আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থেকে থাকে, তবে রাষ্ট্রের অন্যান্য খাত সচল রেখে তার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়। কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
 

মন্তব্য করুন