প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় সুপিয়া বেগম, মানবিক সহায়তার আবেদন

 

আলী হামজা, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অসহায় সুপিয়া বেগম চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘরে ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে তার। ভাঙাচোরা টিনের ছাউনি ও নড়বড়ে দেয়ালই যেন তার একমাত্র আশ্রয়স্থল।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুপিয়া বেগমের বসতঘরটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ঘরের টিনের চালা ভাঙা এবং দেয়ালের অনেক অংশ ক্ষয়ে গেছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ফলে পাঁচ বছর বয়সী দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয় তাকে।

জানা যায়, সংসারে উপার্জন করার মতো কোনো ব্যক্তি না থাকায় সুপিয়া বেগমের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই। স্বামী না থাকায় সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার। অনেক সময় পাড়াপ্রতিবেশীদের কাছ থেকে চাল-ডাল নিয়ে কোনো রকমে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছেন সুপিয়া বেগম। সংসারে স্থায়ী কোনো আয় না থাকায় মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে দিন পার করছেন। অনেক সময় তার ছোট শিশু সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, অসহায় এই নারী ও তার শিশু সন্তানদের জীবনমান অত্যন্ত কষ্টকর। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এগিয়ে আসা জরুরী।

প্রতিবেশীরা বলেন, সামান্য সহায়তা পেলেই অসহায় এই পরিবারের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। বিশেষ করে একটি নিরাপদ বসতঘর নির্মাণ করা গেলে সুপিয়া বেগম ও তার শিশু সন্তানরা অন্তত নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সুপিয়া বেগমের জন্য একটি নিরাপদ বসতঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামান্য সহায়তাই পারে অসহায় এই পরিবারের জীবনে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে দিতে।

মন্তব্য করুন