প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মোঃ আব্দুর রশীদ, চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের চৌগাছায় মাদক সম্রাট ইসমাইল হোসেনের ডেরাই সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদক ও জুয়ার আসর। সন্ধ্যার পর তার ডেরা এলাকায় কৃষিকাজ বা অন্য কোন প্রয়োজনে কৃষকদের যাওয়া নিষেধ। কেউ যদি ওই এলাকায় সন্ধ্যার পর যায় তবে তার উপর নেমে আসে নানান রকমের জুলুম-অত্যাচার। ফলে মাদক সম্রাট ইসমাইলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এলাকাবাসীর পক্ষে হাজরাখানা গ্রামের কিরামত আলী নামে এক কৃষক এর প্রতিকার চেয়ে চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিরামত আলী হাজরা খানা গ্রামের মৃত মঙ্গল কারিগরের ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজরাখানা গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে মাদক সম্রাট ইসমাইল হোসেন (৩৭) একাধিক মাদক মামলার আসামী।
হাজরাখানা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বাইনের মাঠে রয়েছে তার নিজস্ব মাদকের ডেরা। যেখানে সন্ধ্যা নামলেই বেচা-কেনা হয় গাঁজা, মদ, ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিলসহ নানা রকমের মাদক।
এ ডেরাই নিয়মিত বসে জুয়ার আসর। সন্ধ্যা নামার পর ওই মাঠ এলাকায় সাধারণ কৃষক ও জমির মালিকদের যাওয়া নিষেধ। ফলে এলাকার কৃষকদের ওই মাঠে চাষ আবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেজুর রস সংগ্রহ ও ইরিধানের ক্ষেতে সেচ কাজ প্রায় বন্ধের উপক্রম দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী কিরামত আলী তার লিখিত অভিযোগে বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমি আমার ক্ষেতে কাজ করছিলাম, এ সময় ইসমাইল হোসেন তার কুড়েঘর থেকে বের হয়ে এসে আমাকে মাঠ থেকে চলে যেতে বলে। আমি ক্ষেত থেকে কেন যাবো বললে তিনি আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকে। আমাকে সন্ধ্যার পর ওই মাঠে পেলে খুন করার হুমকি দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে সে আমাকে খুন করতে তেড়ে আসে। আমার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে আমাকে প্রকাশ্যে খুন-জখম করার হুমকি দিয়ে সটকে পড়ে।
ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ তাকে আটক করে পাঁচবার জেল-হাজতে পাঠায়। কিন্তু আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে সে বেরিয়ে এসে আবারো শুরু করে মাদক ও জুয়ার ব্যবসা। এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান ইসমাইল হোসেনের উত্থান হয় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে। আওয়ামীলীগের এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার হাতধরে ইসমাইল হোসেন আওয়ামীলীগের নেতা বনে যায়। শুরু করেন মাদক ও জুয়ার ব্যবসা। কেউ তার কাজে বাঁধা দিলে তার বিরুদ্ধে করা হতো নানা মিথ্যা মামলা ও হামলা। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতনা। এভাবে ইসমাইল হোসেন হয়ে উঠে মাদক সম্রাট ।
এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া চলছে, অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে ।
মন্তব্য করুন