প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নগদ টাকার পাশাপাশি ঘুস হিসেবে মুরগীও নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকে তিনি ঘুষ হিসেবে নগদ অর্থের পাশাপাশি মুরগী নিয়েছেন। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এলাকাবাসী জানান, গেল ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছেন তিনি।
এমনকি একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঈদ উপহার সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া, স্থানীয় বাজার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্যাম্পের প্রয়োজনের কথা বলে বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন তিনি।
মাছের ঘের, কৃষিজমি থেকে বিনামূল্যে মাছ ও সবজি নেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি উপজেলার নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদক ও জুয়ার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।
স্থানীয়দের দাবি, নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এসব অবৈধ কার্যক্রম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার ফলে নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। মনিরামপুর ও পাশের অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা নেহালপুরে আসছে।এতে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও বেড়েছে।
শুধু মাদকই নয়, অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনো কার্যক্রম থেকেও মাসিক অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্টরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এসব ঘটনায় ক্যাম্পের অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে কয়েকজন সদস্য অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করে তা মঞ্জুর করিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইনচার্জ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, তার সঙ্গে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা জুয়াড়ির সম্পর্ক নেই এবং তিনি কাউকে চেনেন না। চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে, তাকে আমার সামনে নিয়ে আসেন।”
পুলিশ সদস্যদের বদলির বিষয়ে তিনি জানান, দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকার কারণে তারা বদলি হয়েছেন।
মন্তব্য করুন