প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত: এএফইডি

 

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি)। একইসঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ব্যালট গণনা শুরুর ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন এএফইডির কর্মকর্তারা।

এএফইডি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর অর্থায়নে পরিচালিত এ পর্যবেক্ষণে মোট ৫৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে ৩০ জন বগুড়া-৬ এবং ২৩ জন শেরপুর-৩ আসনে দায়িত্ব পালন করেন।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন। তবে কিছু অনিয়মও চিহ্নিত হয়েছে। এএফইডির মুখপাত্র হারুন-অর-রশিদ জানান, প্রায় ১২ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং ১১ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি কেন্দ্রে শারীরিক সহিংসতা বা ভয় প্রদর্শনের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রায় ৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রচারের সামগ্রী দেখা গেছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। এছাড়া ১২টি ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের কেন্দ্রের বাইরে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে এবং ১৫টি ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোট প্রদানে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে আনার ঘটনাও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল বলেও জানায় এএফইডি। পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল না।

শেরপুর-৩ আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি অতিরিক্ত ভোট প্রদান এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুললেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব ভোটারদের ওপর পড়েনি বলে জানিয়েছে এএফইডি।

ভোটগ্রহণ শেষে সারিতে থাকা ভোটারদের সবাইকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অধিকাংশ কেন্দ্রে দ্রুত গণনা শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে এবং কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই গণনা শুরুর ঘটনা ঘটেছে। দুটি কেন্দ্র ছাড়া প্রায় সব কেন্দ্রেই ফলাফল প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে চারটি ক্ষেত্রে এজেন্টদের আংশিকভাবে গণনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।

বগুড়া-৬ আসনে ডাকযোগে ভোটে অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। তিন হাজার ৭৩৬টি ব্যালটের মধ্যে ফেরত এসেছে এক হাজার ৬৮টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট যথাযথ ঘোষণাপত্র ছাড়া জমা পড়ে এবং কিছু বাতিল হয়।

এএফইডির মতে, ডাকযোগে ভোটের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলেও অংশগ্রহণ এবং নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্নত করতে সংস্থাটি কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্র কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা, সব ভোটকেন্দ্রকে সবার জন্য প্রবেশযোগ্য করা, নির্বাচনের দিনে আচরণবিধি কঠোরভাবে মানা নিশ্চিত করা, পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং ডাকযোগে ভোটের আওতা সম্প্রসারণ।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডেমোক্রেসি ওয়াচ-এর চেয়ারপারসন ও এএফইডির বোর্ড সদস্য তালেয়া রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী নির্বাচনে কিছু বিচ্যুতি থাকেই, বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাইট যশোর-এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এবং ডর্প-এর চেয়ারপারসন এইচ এম নওমান।

মন্তব্য করুন