প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১২:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তেল ছাড়াই চলছে বাইক: রতনের উদ্ভাবনে ৫ টাকায় ১২০ কিমি

মেকানিক রতন । ছবি সংগ্রীহিত

 

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশেও। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন মোটরসাইকেল চালকদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক মেকানিক দেখাচ্ছেন এক ব্যতিক্রমী পথ—যেখানে তেলের প্রয়োজনই নেই।

উপজেলার মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রতন মহন্ত, পেশায় একজন অটোভ্যান মেকানিক। আগে সাইকেল মেরামতের কাজ করলেও বর্তমানে পৌর শহরের কলেজ রোডে তার একটি যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে। সীমিত সম্পদ আর বাস্তব সমস্যার মধ্যেই তিনি তৈরি করেছেন এক অভিনব সমাধান—তেলবিহীন মোটরসাইকেল।

২০১৯ সালে শখ করে একটি পুরোনো ১০০ সিসির মোটরসাইকেল কেনেন রতন। কিন্তু শুরু থেকেই বাইকটি তাকে ভোগাতে থাকে। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের বাড়তি খরচে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। স্থানীয় মেকানিকদের একাধিক চেষ্টার পরও বাইকটি পুরোপুরি ঠিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন রতন।

তিনি বাইকের ইঞ্জিন সম্পূর্ণ খুলে ফেলেন এবং তার পরিবর্তে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি ও একটি অটোরিকশার মোটর। নিজ হাতে সংযোগ স্থাপন করে বাইকটিকে রূপ দেন একটি বৈদ্যুতিক যানে। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর সফলতা পেয়ে ধীরে ধীরে এটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন।

রতন মহন্ত জানান, শুরুতে তার এই উদ্যোগকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। বরং অনেকেই হাসাহাসি করেছেন। “অনেকে বলেছে এটা খেলনা, চলবে না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন যখন তেলের জন্য মানুষ পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তারাই এসে আমার কাজের প্রশংসা করে,” বলেন তিনি।

খরচের দিক থেকেও এটি বিস্ময়কর। রতনের দাবি, যেখানে একটি তেলচালিত মোটরসাইকেলে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে তার তৈরি এই বাইকে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে লাগে মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ। নেই তেল কেনার ঝামেলা, নেই মবিল পরিবর্তনের বাড়তি ব্যয়।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে রতনের এই উদ্ভাবন একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। যেখানে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন, সেখানে তিনি সহজেই চলাফেরা করছেন স্বল্প খরচে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ গ্রামীণ পর্যায়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে সামনে আনছে। যথাযথ সহায়তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পেলে এই ধরনের উদ্ভাবন ভবিষ্যতে বড় পরিসরে কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন